আমাদের চারপাশের চেনা মানুষগুলোর ভেতরের আসল রূপ, তাদের জেদ এবং কু-অভ্যাসকে চেনার জন্য এই তিনটি গল্প এক একটি আয়না। গল্পগুলো ছোট হলেও এদের জীবনবোধ অনেক গভীর:
১. এক চোরের বংশ ধনী হলেও বড় ভাই সিঁধ কেটে চুরি করার পুরনো অভ্যাস ছাড়তে পারছিল না। পরিবারের সম্মান বাঁচাতে সব ভাইয়েরা মিলে তাকে এক বুদ্ধিদীপ্ত প্রস্তাব দিল। তারা বলল, “ভাই, তুমি আমাদের নিজেদের ঘরের জিনিসপত্রই রাতে সিঁধ কেটে এক ঘর থেকে অন্য ঘরে সরাও।” এতে তার চুরির নেশাও মিটলো, আর বংশের সম্মানও বাঁচলো। আল্লাহর হেদায়াত ছাড়া অভ্যাস পরিবর্তন সম্ভব না।
২. এক মহিলা নিজেকে খুব পর্দানশীল দাবি করে বাড়ির সামনের গাছটি কেটে ফেলেন। সবাইকে বলেন, গাছে বসা এক পুরুষ পাখি তাকে দেখে ফেলায় তার পর্দা নষ্ট হয়েছে। কিন্তু আসল সত্য ছিল অন্যরকম। গাছের বড় বড় ডালপালার কারণে তিনি আড়াল থেকে তার অবৈধ প্রেমিককে পরিষ্কারভাবে দেখতে পেতেন না। নিজের গোপন প্রেমের রাস্তা পরিষ্কার করতেই তিনি পর্দার বাহানা দিয়ে গাছটি কেটেছিলেন। নিজের স্বার্থ ও অপরাধ লুকাতে মানুষ প্রায়ই লোকদেখানো ভালো মানুষের মুখোশ পরে।
৩. এক তোতা পাখি এক মহিলাকে দেখলেই তার সম্পর্কে অপ্রিয় সত্যি ও বাজে কথা বলতো। শাস্তি হিসেবে দোকানদার পাখিটিকে বারবার পানিতে চুবাতো। একদিন মহিলাটি পাখিটিকে এসে বললেন, “কী রে, এখন কিছু বলবি না?” পাখিটি তখন দোকানদারের পানির বালতির দিকে তাকিয়ে বলল, “খালাম্মা, আপনি কেমন তা তো আপনি ভালো করেই জানেন। কিন্তু কী আর করবো, পাশে পানির বালতি রাখা আছে!” বিশ্বাস বা ধারণা যখন অন্তরে গেঁথে থাকে তা মুছে ফেলা যায় না।
Related Images:


মন্তব্য করুন